কাব্যগ্রন্থ
প্রেমানল
প্রেমানল
গ্রন্থকার
আরিফুজ্জামান খান
আরিফুজ্জামান খান
প্রকাশকাল
নভেম্বর, ২০১১
নভেম্বর, ২০১১
প্রকাশক
কলমিলতা প্রকাশনী
৬০/২ নয়াপল্টন ( ২য় তলা )
ঢাকা – ১০০০
কলমিলতা প্রকাশনী
৬০/২ নয়াপল্টন ( ২য় তলা )
ঢাকা – ১০০০
স্বত্ব
আরিফুজ্জামান খান
মূল্য
২০০ টাকা
২০০ টাকা
কাব্যগ্রন্থ প্রেমানল থেকে
কবি আরিফুজ্জামান খান এর
৭ টি কবিতা এবং ৩ টি গান
[ ১.]
প্রত্যাবর্তন
কে যেন অদৃশ্য আদেশে আলতো ছুঁয়ে দিয়েছে
সুবিশাল বদ্ধ দ্বারটি ।
আর এতকাল ধরে কত চিত্কার করে,
কত শাবল, কত হাতুড়িপেটা করে খুলতে পারিনি যে-দ্বার
তা-ই খুলে যাচ্ছে ধীরে ধীরে মন্থরে ।
মেঘেদের দিগন্তে ভেসে যাওয়ার মত ধীরে,
সূর্য উদয়ের মত ধীরে ।
দ্বারটি খুলে যাচ্ছে, খুলে যাচ্ছে ...
অদেখা একটি ভোর রাত্রির গর্ভ হতে
একটি অনবদ্য সঙ্গীতের মত প্রস্ফুটিত হচ্ছে অবশেষে ।
বুকের ভেতরে আশঙ্কা আর ভয়ের এ-এক অজানিত অধ্যায় ।
বুক কাঁপছে ধুকপুক, ধুকপুক।
অনেকগুলো ঘণ্টা একই সাথে
একটি অপার্থিব সুরে বেজে বেজে উঠছে ।
মনে হচ্ছে অন্য কোন সুরভিত সময়স্রোতের এই সুর,
অন্য কোন সুশোভিত কালের ।
আমার হৃদয়ের ভেতরে হৃদয়ের গভীরতম প্রদেশে
সেই সুর ক্রমাগত ধাবিত হচ্ছে
কোন গিরিখাত হতে সদ্য নেমে আসা দ্রুতবেগে প্রবাহিত
রৌদ্রসিক্ত উচ্ছল ঝর্ণাধারার মত ...
যে-ঝর্ণাপ্রবাহে একটি শিশুবৃক্ষ জন্ম নিল এই একটু আগে ।
হৃদয়ের গহীন গভীর প্রদেশ হতে মস্তক উত্তোলিত করলো শিশুবৃক্ষটা
এবং একটি অটল বিশ্বাসে আকাশের দিকে ক্রমাগত সঞ্চালিত,
ছন্দায়িত পাতায় পাতায় নতুন জাগ্রত এক বিশ্বস্ত দ্যুতি ছড়াতে থাকলো ।
আহ্ ! আমি শান্ত হয়ে আসছি ।
আমার অস্থির উত্তেজনাগুলো অজানা অপার্থিব সুরে
ক্রমাগত প্রশমিত হয়ে আসছে ।
আমার ক্রন্দনরত অস্থি-মজ্জার অসংযত চিত্কারগুলো
ক্রমাগত পাখনা গুটিয়ে নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে ।
আমার চোখের গাঢ় বাদামী রঙের মণিগুলো
যেগুলো দিনের পর দিন জলের তরঙ্গ বইয়ে দিয়ে অচেনা আকাশের
অজানা দুটো নক্ষত্রের মত নিভে নিভে জ্বলছিল
সেগুলো প্রগাঢ়তর বিশ্বাসের আলোকে দ্যুতিময় হয়ে উঠলো ।
কিন্তু কার আদেশে খুলে গেল এ রুদ্ধ দ্বার ?
ঐ তো অস্ফুটে শোনা যাচ্ছে,
একটি অতিস্নিগ্ধ অজস্র ফুলের সুরভি-মিশ্রিত একটি নারী কণ্ঠস্বর
একটি নতুন ভুবনে, ভুবনের ভেতরে গোপন ভুবনে আমাকে আহবান জানাচ্ছে
ঐ তো লক্ষ লক্ষ রঙের লক্ষ লক্ষ প্রদীপ
যেখানে নাচছে সেখান থেকেই মিষ্টি কণ্ঠস্বরটা ভেসে আসছে ।
একটি পদশব্দ ভেসে আসছে । কে যেন আসছে, কে যেন হাসছে ।
হাসির শব্দটা ক্রমাগত উচ্চকিত হচ্ছে ।
আমার হৃদয়ে পৃথিবীর সমস্ত লাল গোলাপের
নির্যাসিত সৌরভ ছড়িয়ে পড়লো হঠাত ।
আমার স্মৃতির অনিন্দলোকের আয়নায় সেই গগনবিদীর্ণ করা
বিশ্ব বিচূর্ণ করা স্নিগ্ধতরো মনোরমতরো এক অতুলনীয়
আলোক বিভাসিত রূপ ভেসে উঠতে থাকলো ক্রমশঃ ঝাপসা ঝাপসা ।
চুলোগুলো দেখে যার মনে হতো সেগুলো
নয়কো চুল, সবগুলো যেন হায় গোলাপফুল।
হ্যাঁ অতঃপর এবার আমি বুঝতে
পেরেছি কে খুলে দিয়েছে এ রুদ্ধদ্বার
এতটাই অনায়াসে হেসে হেসে।
আমি হৃদয়ে আবেগের এক অত্যাশ্চর্য
সুখকর সঘন স্তর অনুভব করলাম।
যে আমার সাথে প্রেমবন্ধনে আবদ্ধ ছিল, সে-ই-যে আজ আসছে।
ভীষণ ভয় করছে, আজ আমার ভীষণ ভয় করছে,
হৃদয় আনন্দমথিত করা আনন্দঘন ভয়।
মনটা একবার আশঙ্কায় একবার আনন্দে
এদিকে আর ওদিকে দুলে-দুলে উঠতে লাগলো,
দুলে-দুলে কাঁপতে থাকলো।
যে আমার সাথে প্রেমবন্ধনে আবদ্ধ ছিল, সে-ই-যে আজ আসছে।
ভীষণ ভয় করছে, আজ আমার ভীষণ ভয় করছে,
হৃদয় আনন্দমথিত করা আননন্দঘন ভয়।
[ বি. দ্র ]
০১.
আমার কবিতা বা গানের কোন লিরিক্স কোন রাজনৈতিক ইস্যুতে
কোন রাজনৈতিক দলেই যেন ব্যবহৃত না হয় ।
আমার কবিতা বা গানের কোন লিরিক্স কোন রাজনৈতিক ইস্যুতে
কোন রাজনৈতিক দলেই যেন ব্যবহৃত না হয় ।
০২.
আমার কবিতা ও গানের যে-কোন লিরিক্স নকল কিংবা চুরি করলে
Intellectual Property Act – এর অধীনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।
আমার কবিতা ও গানের যে-কোন লিরিক্স নকল কিংবা চুরি করলে
Intellectual Property Act – এর অধীনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।
০৩.
কোন ধর্মীয় অনুভূতিতে ( মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান সহ সকল ধর্ম ) যদি
আমার লেখায় আঘাত করে থাকি তা আমার অজ্ঞতাবশতঃ এবং আমি সকলের
নিকট ক্ষমাপ্রার্থী ।
কোন ধর্মীয় অনুভূতিতে ( মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান সহ সকল ধর্ম ) যদি
আমার লেখায় আঘাত করে থাকি তা আমার অজ্ঞতাবশতঃ এবং আমি সকলের
নিকট ক্ষমাপ্রার্থী ।